নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই, ঢাকা:
ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ দেওয়ার কথা বলে রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে নিয়ে গলার চেইনসহ স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের একের পর এক ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও তাদের স্বজনের উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ নারী প্রতারক চক্র। ফলে হাসপাতাল এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বোরকা পরা নারীদের প্রতারণার কৌশল
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বোরকা পরা একদল নারী দলবদ্ধভাবে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করে। তারা নিজেদের ‘সরকারি সহায়তাকারী’ বা ‘ওষুধ বিতরণ কর্মী’ পরিচয় দিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে। পরে বিনামূল্যে সরকারি ওষুধ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বা ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যায়।
সুযোগ বুঝে তারা গলার চেইন, কানের দুলসহ মূল্যবান স্বর্ণালংকার কৌশলে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা বুঝে ওঠার আগেই প্রতারকরা ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়।
বয়স্ক নারী রোগীরাই প্রধান টার্গেট
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতারক চক্রের প্রধান লক্ষ্য বয়স্ক নারী রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনরা। অসুস্থতা, ভিড় এবং পরিস্থিতিগত চাপে তারা সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী নারী জানান,
“ওরা বলেছিল সরকারি ওষুধ দেবে। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে আমাকে ঘিরে ধরল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গলার চেইন নেই।”
নিয়মিত ঘটলেও প্রকাশ্যে আসছে না অনেক ঘটনা
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল এলাকায় এমন ছিনতাই ও প্রতারণার ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও অনেক সময় তা প্রকাশ্যে আসে না।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,
“হাসপাতালে এত মানুষ আসে, অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। এই সুযোগটাই নিচ্ছে প্রতারকরা।”
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর পর্যবেক্ষণ, আনসার বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ রোগী ও স্বজনদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
