মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, শেয়ারবাজারে পতন হচ্ছে, আর বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ—বিশেষ করে ডলার ও স্বর্ণে ঝুঁকছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড ও মার্কিন ক্রুড—দুটির দামই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে স্বর্ণের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।
বিশ্ববাজারের নজর এখন হরমুজ প্রণালী–এর দিকে। কারণ এই পথ দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত গ্যাস যায়।
নিরাপত্তা শঙ্কা ও বীমা জটিলতায় অনেক তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ বা ধীর হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি–এর বিশ্লেষক জর্জ লিওন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। উত্তেজনা কমার লক্ষণ না থাকলে তেলের দাম আরও বড়ভাবে বাড়তে পারে।
তেল উৎপাদক জোট ওপেক প্লাস উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিরাপদে তেল রপ্তানি করা যাবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। বিশেষ করে এয়ারলাইন খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, ব্যবসা ও ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে।