সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

শাহাদাত বরণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

  • সময়: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৮.৪৯ এএম
  • ২২ জন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬)। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করেন।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি তৈরি করা হয় এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ওপরে একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়। ৮৮ সদস্যের আলেমদের নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নেতা নির্বাচন করে।

খামেনির ক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নিরাপত্তা কাঠামোর আনুগত্য তার অবস্থানকে দৃঢ় করে রেখেছে।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি। তবে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন দাবি করে আসছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অতীতে খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হতে পারে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছিলেন, ‘খামেনি এভাবে টিকে থাকতে পারেন না।’

তার ভাষায়, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ চাইলে সরকার পরিবর্তন সম্ভব এবং সেটিই ‘সেরা পরিণতি’ হতে পারে। অতীতে তিনি খামেনিকে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। কৌশলগতভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর করা গেলে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2025 © All rights reserved by BUD News 24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com