বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের নাক গলানো থামছেই না

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫, ২.২২ পিএম
  • ২৪ জন

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে ভারত। গত ১৫ বছরে ঢাকার ওপর দেশটির হস্তক্ষেপ মাত্রা ছাড়িয়েছিল। এ হস্তক্ষেপে ছেদ ঘটায় জুলাই বিপ্লব। বাংলাদেশের ওপর দাদাগিরি করতে যে ‘তাসের ঘর’ এতদিন নির্মাণ করেছিল দিল্লি, তা গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের সঙ্গে সঙ্গে ধপাস করে ভেঙে পড়ে।

দাদাগিরি হারিয়েও বাংলাদেশের বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের পুরোনো অভ্যাস থেকে বের হতে পারছে না কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল দ্বারা শাসিত ভারত। ঢাকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এখনো অযাচিত নাক গলাচ্ছে দিল্লি। কখনো বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ধরনা দিচ্ছে ট্রাম্পের দুয়ারে, আবার কখনো রাখঢাক না করেই মন্তব্য করছে ঢাকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে। তাছাড়া স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর থেকে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে ঢাকাকে হেয় করতে গদি মিডিয়াগুলোকে লেলিয়ে দিয়েছে দিল্লি। এমনকি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নিয়েও দেশটির গণমাধ্যম অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

সর্বশেষ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা দিল্লির বয়ানেরই পুনরুল্লেখ যেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশটির প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে বাংলাদেশের মানুষ।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় গুজব বা অপতথ্য ঠেকাতে বাংলাদেশের বিদেশি মিশনগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। অন্যদিকে যদি দিল্লি ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মতের দিকে নজর দিয়ে সাম্যতার ভিত্তিতে ভারতকে তাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করতে হবে। দিল্লির প্রভুসুলভ আচরণ দুদেশের সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটাবে। সম্পর্ক প্রতিবেশীসুলভ না হলে লাভের বদলে ভারতের ক্ষতিই বেশি হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সব বিষয়ের নিষ্পত্তি করুক। বাংলাদেশ সরকার প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত সাজা দিক।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়সোয়াল। যদিও তার এসব মন্তব্য হালকাভাবে নেয়নি ঢাকা। এ বিষয়ে রাখঢাক না রেখেই প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০তম দিনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুরা কয়েকটি ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়েছে। তবে অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা রাজনৈতিক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কয়েকটি ক্ষেত্রে সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটা নিয়ে যেসব প্রচার-প্রচারণা হয়েছে তা ছিল সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত। অল্প যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক।

পুলিশও অনুসন্ধান করে পেয়েছে রাজনৈতিক কারণেই সংখ্যালঘুদের ওপর অধিকাংশ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পুলিশের অনুসন্ধান সম্পর্কে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘিরে ৪ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ১ হাজার ৪১৫টি অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ১ হাজার ২৫৪টির সত্যতা পাওয়া গেছে। যে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ১ হাজার ২৩৪টি অর্থাৎ ৯৮ দশমিক ৪% ঘটনাই ঘটেছে রাজনৈতিক কারণে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠক প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্রি বলেছিলেন, বাংলাদেশ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ইসকনের চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের পরও ভারতের সংসদে বাংলাদেশ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়।

সম্প্রতি ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা এবং শৃঙ্খলা (চেইন অব কমান্ড) ভেঙে পড়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। প্রতিবাদে বলা হয়, এসব প্রতিবেদন পুরোপুরি মিথ্যা এবং সেগুলো বাংলাদেশ ও এর সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম এবং স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ বলে প্রতীয়মান হয়।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম ও ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বেড়েছে।

সর্বশেষ ভারত সফরে এসে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে সাক্ষাৎকার দেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। বাংলাদেশে ‘ইসলামি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদী উপাদানের’ উত্থান নিয়ে আলাপের সময় তিনি বলেন, ‘এটা উদ্বেগের প্রধান জায়গার একটি হয়ে রয়েছে।’

সাক্ষাৎকারে তুলসী সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। যদিও ঢাকা তার মন্তব্যে মোটেও খুশি হতে পারেনি। তার দাবি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তুলসীর মন্তব্য নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ওটাই। ওনার বক্তব্য গুরুতর।

বাংলাদেশের ক্রমাগত প্রতিবাদের পরও ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঢাকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। দেশটির গণমাধ্যমেও বাংলাদেশ নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো বন্ধ হচ্ছে না। এ অপতথ্যের প্রভাবে বিশ্বে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের সুনাম। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের সাবেক গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সরদার আব্বাস আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশের ইংরেজি গণমাধ্যম যেহেতু তেমন শক্তিশালী বা পপুলার না, তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও অনেক দেশ বাংলাদেশ বিষয়ে জানার জন্য ভারতীয় গণমাধ্যমের উপর নির্ভর করে। এ অবস্থায় তাদের দেওয়া অপতথ্যের প্রভাব তো অবশ্যই আছে।

ভারতের এ অপতথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোকে সক্রিয় করার কথা জানান এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি বলেন, দেশের ইংরেজি গণমাধ্যমগুলোকে শক্তিশালী করা, সরকারের পক্ষ থেকে যে তথ্য সরবরাহ করা হয় তার ইংরেজি একটি ভার্সন তৈরি করা যেতে পারে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ যেটি, তা হলো জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন দেশে আমাদের যে মিশন আছে তাদের পুরোপুরি একটিভ করতে হবে।

বাংলাদেশের জনগণের চাহিদাকে কখনো ভারত প্রাধান্য দেয়নি। এখনো তারা ঢাকার বিরুদ্ধে অব্যাহত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া আলী আহসান জুনায়েদ আমার দেশকে বলেন, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে জনপ্রিয় স্লোগান ছিল ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’। এর কারণ ছিল দিল্লি হাসিনার ফ্যাসিবাদী রেজিমকে অব্যাহত সমর্থন দিয়েছিল বাংলাদেশের জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে। সেই জায়গা থেকে দাসত্বপূর্ণ সম্পর্ক মেনে নেয়নি বাংলাদেশের মানুষ। ফলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পতনের পর মানুষ মনে করেছে এখানে দিল্লির আধিপত্যবাদের পতন হয়েছে। ভারত যে বাংলাদেশের জনগণের চাহিদাকে প্রাধান্য দেয়নি তার প্রমাণ হচ্ছে, তারা অব্যাহতভাবে পুরো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার অনুরোধ থাকবে, বাংলাদেশের জনগণের মতের দিকে নজর দিয়ে সাম্যতার ভিত্তিতে যেন তারা তাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করে।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের অযাচিত হস্তক্ষেপমূলক আচরণে দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসান। তিনি আমার দেশকে বলেন, এটা আসলে দু’পক্ষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে ভারতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বেশি। বাংলাদেশ ছোট রাষ্ট্র, চারদিক থেকে ভারতবেষ্টিত, সুতরাং ভারতের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারবে না— এরকম একটা মিথ্যা অনুমান অনেকে বিশ্বাস করেন। এটি ভারতীয় মিডিয়ার প্রোপাগান্ডার অংশ। কিন্তু আসলে এটা সত্য নয়। বাংলাদেশ ভারতের উপর যতটা নির্ভরশীল, ভারত বাংলাদেশের উপর তার চেয়েও বেশি নির্ভরশীল। দুটি কারণে এই নির্ভরশীলতা বেশি— এক. ভূখণ্ডগত বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশকে ভারতের দরকার। দুই. তার বাণিজ্যের বড় বাজার বাংলাদেশ। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে তার বাজার ছোট হয়ে এসেছে। ভারতে বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগী যাওয়ার হারও কমে গেছে।

জাবির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এ শিক্ষকের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত যে আচরণ করে তা কোনো মতেই প্রতিবেশীসুলভ নয়। তিনি বলেন, তাছাড়া ভারত তার স্বার্থ রক্ষার জন্য যে এগ্রেসিভ ডিপ্লোমেসি চর্চা করছে সেটি তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত বাংলাদেশে একটি করাপ্ট সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক মেইনটেইন করেছে। ফলে রেজিম পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছু থমকে গিয়েছে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির এখন সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে জাবির এ শিক্ষক বলেন, এখন ভারত যদি আরো এগ্রেসিভ পলিসি নেয় তাহলে মানুষ আরো বেশি ভারতবিদ্বেষী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ দেশের অধিকাংশ মানুষকে সংক্ষুব্ধ করে এমন আচরণ ভারতের জন্য লাভজনক হবে না। এতে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ভারতের যে প্রভাব ছিল তা আরো ক্ষয়িষ্ণু হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের এখন যে সম্পর্ক তা নিয়ে কথা বলতে গেলে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আইয়ুব। তিনি আমার দেশকে বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমান শাসকগোষ্ঠীর আগমনের পর থেকেই ভারতীয় ব্রাহ্মণবাদীরা মুসলমান শাসক ও জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিল। সেটি বজায় ছিল ইংরেজ আমলেও। পরে পাকিস্তান-ভারত ভাগ হলো। এ সময় পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের দুটি আলাদা রাষ্ট্র হওয়া হয়তো উচিত ছিল। যেহেতু হয়নি ভারতের চেষ্টা ছিল শক্তিশালী পাকিস্তান ভাঙার। তার প্রেক্ষাপটে শত্রুতা শুরু হয়।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ভারত তার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করেছে। যদিও এখানে দিল্লির প্রজেক্ট ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে এস এম আইয়ুব বলেন, পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিমরা বরাবরই সুখে-শান্তিতেই ছিল। ব্রাহ্মণ্যবাদীরা তাদের আধিপত্যবাদ বজায় রাখার জন্য যে শাসকগোষ্ঠীকে আমাদের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো বসিয়ে রেখেছিল সেই আওয়ামী গোষ্ঠী দ্বারা তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার করেছে। কিন্তু এই স্বার্থ তো বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ নয়। তাদের বাংলাদেশ প্রজেক্ট ফেল হওয়ার কারণে তারা মরিয়া হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সর্বগ্রাসী প্রচার প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের তেমন একটা ক্ষতি হবে না। এটা তাদের মনোপীড়ার বড় কারণ যে, বাংলাদেশের মানুষকে তারা কিনতে পারেনি। যাদের কিনতে পেরেছে তারা তো তাদের দেশেই চলে গেছে। এখন যারা বাংলাদেশে রয়েছে তাদের মধ্যে বিভক্তি আনাটাই তাদের এজেন্ডা। এতে তাদেরই ক্ষতি হবে বেশি, আমাদের নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক। তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক সম্মান, মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে হলে তা উভয়ের জন্য কল্যাণকর হতে পারে। আমাদের সাহায্য তাদের বেশি দরকার।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved by BUD News 24-2025
Developed BY www.budnews24.com