বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন

আজহারের মুক্তি ইস্যুতে হঠাৎ কঠোর জামায়াত

  • সময়: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ১২.১০ পিএম
  • ৪১ জন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সরব অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ডাকে বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময়ে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে দলটি। একই সঙ্গে চলছে আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি ও প্রচারকাজ। তবে দলের কারারুদ্ধ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল (সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল) এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে রাজপথে হঠাৎ করেই বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

অবিলম্বে তার মুক্তি নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভের পর এবার আরো জোরালে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘিরে গণঅবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউন করবে বলে জানা গেছে। এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এ টি এম আজহারের মুক্তির দাবিতে আদালতে গিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণের ঘোষণা দিলেও পরে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

অবশ্য জামায়াতের এ কর্মসূচির প্রস্তুতির মধ্যেই গতকাল রোবাবর আজহারের আবেদন শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত। তবে একই দিন পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, মঙ্গলবার ঢাকায় অনেক বড় কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকার পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা আসবেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায় অবস্থান নেবেন নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবেন তারা। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সরকারকে অবহিত করা হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। এজন্য মহানগরের সব থানার দায়িত্বশীলদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

জামায়াত নেতাদের দাবি, বিগত আওয়ামী সরকার বিচারের নামে শীর্ষনেতাদের জুডিশিয়াল কিলিং করেছে। সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে মাত্র একজন এখনো বেঁচে আছেন। অথচ ফ্যাসিস্ট সরকারের সবচেয়ে বড় জুলুমের শিকার এ টি এম আজহারকে এখনো মুক্তি না দেওয়ায় তারা হতবাক। এর পেছনে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করতে পারে বলে তাদের ধারণা।

দলীয় সূত্রমতে, পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন তিনি। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ রায় দেয়। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এটি পুনর্বিবেচনা চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ওই শুনানি ঝুলে ছিল।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানা তৎপরতা চালানো হলেও এতদিনে আদালতে শুনানি ও মুক্তির বিষয়টি ঝুলে থাকায় ক্ষোভ বাড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে জেল-জুলুমের শিকার সব রাজনৈতিক নেতাকর্মী মুক্ত হলেও আজহারকে নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পড়েন সংশ্লিষ্টরা। একপর্যায়ে তার মুক্তির দাবি নিয়ে রাজপথে নামেন জামায়াত নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘ ১৯০ দিন পর দলের শীর্ষনেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবি নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্টনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা মহানগর জামায়াত। এতে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান অবিলম্বে আজহারকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারকে কঠোর বার্তা দেন। অন্যথায় আরো তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। একই দিন সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিজের ফেসবুকে ডা. শফিকুর রহমান আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণের ঘোষণা দিলে সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সারাদেশে জামায়াত নেতাকর্মীরাও আমিরের সঙ্গে কারাবরণের ঘোষণা দেন। এক পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের (যমুনা) সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দলটি।

বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ গণঅবস্থান কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এক বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, এ টি এম আজহারুল ইসলাম তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের মিথ্যা ও সাজানো মামলায় বিগত ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক আছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকর্মী মুক্তিলাভ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় সাড়ে ছয় মাস অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তিলাভ করেননি। এতে দেশবাসী হতবাক ও বিস্মিত।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved by BUD News 24-2025
Developed BY www.budnews24.com