অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পাঁচটি সংস্কার কমিশনের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৫.৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশনকে, যার পরিমাণ ১.৫ কোটি টাকারও বেশি। আর সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে পুলিশ সংস্কার কমিশন, যার পরিমাণ সংবিধান সংস্কার কমিশনকে বরাদ্দ দেওয়ার অর্থের প্রায় অর্ধেক। অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করে।
এসব কমিশনের প্রধান ও সদস্যদের জন্য সচিবদের সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন ছাড়া বাকি পাঁচটি কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়ার পর সরকার তা প্রকাশ করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পাঁচটির অনুকূলে ইতিমধ্যে ৫.৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে দেশের বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে সংবিধান সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের অনুকূলে ১.৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যমান নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করে বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের অনুকূলে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১.৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে গঠিত স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের অনুকূলে ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
জনমুখী, জবিাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮৩ লাখ টাকা।
স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার বিভাগের জন্য ব্যবস্থা প্রস্তাব করতে গঠিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কমিশনগুলোর প্রধান ও সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সম্মানীসহ আনুষঙ্গিক কাজের ব্যয় মেটাতে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ রয়েছে, তার মধ্যে কোনগুলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছে।