বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন

‘দুর্নাম আনল ফ্র্যাঞ্চাইজি, দায় বিসিবিরও’

  • সময়: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ৪.৪৪ পিএম
  • ৪৪ জন

এবারের বিপিএলের ফাইনাল এখনো হয়নি। কে চ্যাম্পিয়ন হবে সেটা এখনো আমরা জানি না। তবে একটা বিষয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে যে এই বিপিএল আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করে দিল! সংকট সমাধানের জন্য বিসিবি শেষের দিকে এসে উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু ততক্ষণে যে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ক্ষতি যতটা হওয়ার হয়ে গেছে। ভাবমূর্তি ও মর্যাদা উদ্ধারের এই ক্ষতি কাটিয়ে বিসিবির অনেক সময় লেগে যাবে।

বিপিএলের এই সংকটের দায় অবশ্যই অনেকাংশে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি)। ক্রিকেট বোর্ড ক্লিয়ারলি জানে না যে দুর্বার রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক কে। কারা এই টিমের দায়িত্বে আছে। আমরা শফিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কথা শুনলাম। দেখলাম টিভি ক্যামেরার সামনে এসে তিনি হাসিমুখে কথা বলছেন। তাকে দেখে যেন মনেই হচ্ছে যে কি বিশাল সমস্যায় তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ফেলেছেন। তিনি তো একাই পচিয়ে দিলেন এবারের বিপিএলকে। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদও সেটাই বললেন।

দুর্বার রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা শুরুতে একটা গ্রুপের কাছে ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট যত সামনে বেড়েছে তখনই দেখা গেল কর্তার একক চেয়ারে শুধু শফিকুর রহমান। এখন নাকি আরেকজন ব্যক্তির দল। কে কোন দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি নিচ্ছেন, তার পরিচয় কী, তার সামর্থ্য কেমন, তিনি ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে সমর্থ কি না- এসব বিষয়ে বিসিবি কোনো ভালোভাবে খোঁজখবর নিল না, এই প্রশ্ন তুলে বিসিবিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। কেন এমন লোক বা গ্রুপের কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা বিক্রি করল বিসিবি?

অবস্থা এমন শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছাল যে, রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটারদের দেশের ফেরার বিমানের টিকিটের জন্য বিসিবির দারস্থ হতে হলো! এটা যে চরম লজ্জার বিষয়।

আমি নিজে রাজশাহীর টিম হোটেলে গিয়েছিলাম। যেখানে অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজির ক্রিকেটাররাও থাকে। এমন একটা পরিবেশ হয়েছে যে, সবাই এটা নিয়ে আলাপ করছে। রাজশাহীর ক্রিকেটারদের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। তাদের অসহায়ত্ব দেখে ভীষণ খারাপ লাগল। বিদেশি ক্রিকেটাররা তাদের নিজেদের বোর্ডকে এখানকার পরিস্থিতি জানায়। সেসব বোর্ড তাদের ক্রিকেটারদের বিমান টিকিট পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছিল!

এটা বিসিবির জন্য তো বিশাল লজ্জার ব্যাপার। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেল যে, রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে গেল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। সেখানে বসে তিনি মুচলেকা দিলেন। বললেন, ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি সব ক্রিকেটারের পাওনা মিটিয়ে দেবেন। আমি জানা মতে দুনিয়ার আর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ক্রিকেটারদের ন্যায্য পাওনা মেটানো নিয়ে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের একটা সংগঠন আছে, কোয়াব। আমি তো মনে করি শুরু থেকেই তাদের শক্ত একটা পদক্ষেপ ছিল। ক্রিকেট বোর্ড শুরুতে ক্রিকেটারদের এসব পাওনার বিষয়ে কিছুটা নরম ছিল। সেই সুযোগটাই নিয়েছেন রাজশাহীর মালিক। সমস্যা যখন জানা গেল তখনই তাকে কষে চেপে ধরা উচিত ছিল। দুর্বার রাজশাহীর এই মালিক বিপিএলের যে দুর্নাম কামাই করলেন সেই যন্ত্রণা বিসিবিকে অনেক অনেক দিন পোড়াবে।

আপনার সামাজিক মাধ্যমে খবরগুলো শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved by BUD News 24-2025
Developed BY www.budnews24.com